Showing posts with label ধর্ম. Show all posts
Showing posts with label ধর্ম. Show all posts

Wednesday, December 20, 2017

প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজতে ইসলামের আমিরকে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার ১

প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজতে ইসলামের আমিরকে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার ১

স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফীকে কটূক্তির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে সরাইল উপজেলার বাড্ডাপাড়া থেকে আবু সালেককে গ্রেফতার করা হয়।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন জানান, আবু সালেক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন অন্যের ফেসবুক থেকে ছবিগুলো সংগ্রহ করে নিজ আইডিতে পোস্ট দিয়েছেন।

ওসি সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সরাইলের চুন্টা এলাকার মাওলানা আতিক উল্লাহ্ বাদী হয়ে সরাইল থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। তবে বিষয়টি তথ্য প্রযুক্তি আইনে অপরাধ হওয়ায় মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দফতরের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরে আবেদন করা হয়েছে। তাই তাকে আপাতত দণ্ডবিধির ৫৪ ধারা দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কটূক্তির ঘটনায় পুরো সরাইলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় সরাইল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হেফাজতে ইসলাম সরাইল উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম জানান, সরাইল চুন্টা এলাকার মুরগি বিক্রেতা আবু সালেক গত এপ্রিল মাস থেকে হেফাজতের আমির আহমদ শফী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করে আসছিল। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

জেলা ছাত্র খেলাফত আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় তৌহিদী জনতা সরাইল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে কোনও আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
রাসূলুল্লাহর হাদিসকে অশ্লিল আখ্যা দিলো ভোরের কাগজের শ্যামল দত্ত ও অভিজিৎ ভট্টাচার্য

রাসূলুল্লাহর হাদিসকে অশ্লিল আখ্যা দিলো ভোরের কাগজের শ্যামল দত্ত ও অভিজিৎ ভট্টাচার্য

ইকবাল আহমেদ শামীমঃ আজকে দৈনিক ভোরের কাগজের ১ম পৃষ্ঠায় অভিজিৎ ভট্টাচার্য নামের এক সাংবাদিক “মাদ্রাসার বইয়ে অশ্লীলতা” নামের একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছে। এই প্রতিবেদনে মুসলমানদের প্রিয় নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস শরীফ কে অশ্লীল এবং ব্যাঙ্গাত্মক আখ্যা দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্যবই হিসেবে ছাপা হওয়া মাদ্রাসার দাখিল স্তরের নবম-দশম শ্রেণির আল হাদিস বইয়ের ৫৩ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে,
একদা এক ব্যক্তি হজরত রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেনআমি কি আমার মায়ের কাছে প্রবেশ করতে অনুমতি প্রার্থনা করবতিনি বললেন হ্যাঁ। তখন লোকটি বললআমি তো তার খাদেম। হজরত রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনতুমি তার কাছে অনুমতি চাও। তুমি কি তোমার মাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পছন্দ করো?’

এই হাদিস শরীফ কে অশ্লীল আখ্যা দিয়ে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির আকায়েদ ওয়াল ফিক্হনবম ও দশম শ্রেণির কুরআন মজিদ ও তাজভিদ এবং আল হাদিস বইয়ের প্রায় ২৩ লাখ কপিকে ফেরৎ আনা হচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বিতরণকেন্দ্র থেকে। সেইসাথে এই প্রতিবেদনে অভিজিত ভট্টাচার্য নামের ওই প্রতিবেদক মাদ্রাসা শিক্ষা বোডের বইয়ে -
সর্বময় ক্ষমতা তথা আইনবিধানরাষ্ট্রনীতিঅর্থনীতিশাসন চলবে আল্লাহ তায়ালার নামেঅন্য কারো নয়।
* ‘আল কুরআন মুসলমানদের সংবিধান
এই বিষয়গুলোকে দেশদ্রোহী ও সরকাবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আর এই প্রতিবেদকের সাথে একমত হয়েছে বাংলাদেশ পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা কিছু ইসলাম বিদ্বেষি হিন্দুত্ববাদী ও উগ্র নাস্তিক্যবাদী মহল। (সুত্র - https://goo.gl/QDDxeU)

আমরা সবাই জানি বাংলাদেশ একটা শান্তিপ্রিয় মুসলিম দেশ। তার হাজার হাজার প্রমাণও আছে। প্রবাসে থাকলেও বাংলাদেশের খবরাখবর আমি প্রতিদিনই পেয়ে থাকি আমার অনেক বন্ধু বান্ধবের মাধ্যমে। আফসোস লাগে যে বাংলাদেশে অনেক মুসলিম রাজনৈতিক দল বিদ্যমান হওয়া  সত্বেও এভাবে মুসলিমদের ধর্মীয় বিষয় নিয়ে উগ্র হিন্দুরা জাতীয় দৈনিকগুলোতে অবমাননা করে চলেছে অথছ বাংলাদেশেরধর্মীয় দলগুলো হাত গুটিয়ে বসে আছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড হলো মুসলিমদের বোর্ড। সেই বোর্ডের বইগুলোতে কি থাকবে না থাকবে তা কি উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা কি নির্ধারণ করবেআর যদিও এগুলো নিয়ে আপত্তি করে তাহলে তা হবে মুসলিমদের ধর্ম অবমাননা। এমনকিমাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একটি বইয়ে হাসিনা বেগম লেখা হয়েছে। এটাও নাকি দেশবিরোধী ও শেখ হাসিনা বিরোধী হয়ে গিয়েছে। কি আজব দেশ রে বাবা!

অথচবাংলাদেশের শিক্ষাবোর্ডের হিন্দুধর্ম বইগুলোতে এবং কিশোর কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নামের বইয়ে যৌনাঙ্গ সম্পর্কে নিখুত বর্ননা এবং কিভাবে সেক্স করতে হবে সে সম্পর্কেও বর্ননা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেগুলোকে অশ্লীল বলা হচ্ছেনা। অথচ মুসলিমদের এই হাদিস শরীফে অশ্লীলতার কোন বিষয়ই নাই। আসলে এগুলো ইচ্ছে করেই করা হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে হিন্দু শিক্ষা বোর্ডে পরিণত করার প্ল্যান করা হচ্ছে। দিন দিন সরকার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে অসাম্প্রদায়িকতার নামে ইসলামের সব ভাবধারা মুছে ফেলছে। বাংলাদেশের মুসলিমদের সচেতন হওয়ার এখনই সময়।
সৌদি আরবকে যেভাবে ধর্মীয় শাসনমুক্ত করতে চাচ্ছেন যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমান

সৌদি আরবকে যেভাবে ধর্মীয় শাসনমুক্ত করতে চাচ্ছেন যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমান


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স অর্থাৎ ভবিষ্যৎ বাদশাহ মুহম্মদ বিন সালমান বলেছেন, তাঁর দেশ আরও উদারপন্থিউন্মুক্তহয়ে উঠবে৷ দেশ থেকে মৌলবাদী ইসলামি আদর্শ দূর' করারও অঙ্গীকার করেন তিনি৷ রিয়াদে বিনিয়োগকারীদের সাথে এক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন৷ তিনি বলেন ‘‘আমরা আগে যেমন ছিলাম সেই অবস্থায় ফিরছি- এমন একটি দেশ, যেখানে উদারপন্থি ইসলাম বিরাজমান এবং যেটি সব ধর্মের মানুষজন ও বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত থাকবে,’’ বলেন সালমান৷ ৩২ বছর বয়সি এই ক্রাউন প্রিন্স বলেন, ‘‘আমরা শিগগিরই জঙ্গিবাদের যেটুকু বাকি আছে, তা সমূলে উৎপাটন করব - আমরা ইসলামের উদারপন্থি শিক্ষা ও নীতির প্রতিনিধিত্ব করি৷’’

চলতি বছর বিন সালমান ক্রাউন প্রিন্সের দায়িত্ব পাওয়ার পর সৌদি আরবে নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পেয়েছেন৷ এছাড়া দেশটিতে আবারও সিনেমা হল চালুর অনুমতিও দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে৷ সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স অর্থাৎ ভবিষ্যৎ বাদশাহ মুহম্মদ বিন সালমান বলেছেন, তাঁর দেশ আরও উদারপন্থিউন্মুক্তহয়ে উঠবে৷ দেশ থেকে মৌলবাদী ইসলামি আদর্শ দূর' করারও অঙ্গীকার করেন তিনি৷ এদিকে গার্ডিয়ানের এক নিবন্ধে সৌদি আরবে পরিবর্তনের নানা দিক তুলে ধরা হয়এতে বলা হয়, এ সময় সৌদি আরবে কিছু একটা ঘটছেবহু দশক ধরে সৌদি শাসক পরিবার অঙ্গীকারের নীতি অনুসরণ করেছে, তবে বাস্তবায়ন করেনিতারা তাদের বহুল ক্ষীয়মান বৈশ্বিক ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল করার চেষ্টায় সত্যি কথা বলেছে, তবে তাতে ভালো ফল হয়েছে খুব কমতবে এবার ব্যাপারটি সম্ভবত অন্যরকমগার্ডিয়ানের সাথে এক সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মুহম্মদ বিন সালমান যা বলেছেন তা তার কট্টর ছিদ্রান্বেষীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করবেযা ঘটেছে তিনি তা সরাসরি উল্লেখ করে বলেছেন যে, ইরানি বিপ্লব এ অঞ্চলে ধর্মীয় শাসনের সূচনা করেছে এবং সৌদি আরবের এখন তা থেকে মুক্ত হওয়ার সময় এসেছে

মুহম্মদ বিন সালমান বলেনআমরা সেদিকে ফিরে যাচ্ছি যা এক সময় আমরা অনুসরণ করতামতা হচ্ছে মধ্যপন্থার ইসলাম যা বিশ্ব ও সকল ধর্মের কাছে উন্মুক্ততিনি বলেন, ৭০ শতাংশ সৌদির বয়স ৩০ বছরের কমসত্যি বলতে কিআমরা উগ্রপন্থী চিন্তাভাবনার মোকাবেলা করে আমাদের জীবনের ৩০টি বছর অপচয় করব নাআমরা এখনি এবং অবিলম্বে তা ধ্বংস করব

সৌদি যুবরাজ মুহম্মদ একজন দক্ষ বিপণনকারী, পশ্চিমা মিডিয়ার কাছে অত্যন্ত প্রিয়তার কাছের সাংবাদিকরা তাকে প্রায়ই এমবিএস নামে উল্লেখ করেন যা উইকিতে উকি দিলেই টের পাওয়া যাবেতিনি তার দেশের বহুলকাঙ্ক্ষিত রূপান্তরের প্রধান রূপকার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করেছেনচকিতের জন্য মনে হয়েছিল তিনি যা বলছেন তা প্রত্যাশা, সৌদি আরব যেমন ছিল তেমনি থাকবে, তার বেশি কিছু হবে না তবে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ, তার সাথে মহিলাদের গাড়ি চালনার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বলছে যে, প্রিন্স মুহম্মদ ও রাজ পরিবারের যাদের তিনি পক্ষে আনতে পেরেছেন তারা সবাই সিরিয়াসতার প্রকাশ্য অবস্থানকে জ্যেষ্ঠরাও সমর্থন করেছেন, তার মানে এসব তার একার উদ্যোগ নয়

তেলের নিম্নমূল্য এবং বহুমুখিতাহীন অর্থনীতি শাসক রাজপরিবারকে শিখিয়েছে যে রাষ্ট্র তাদের পৃষ্ঠপোষকতা চালিয়ে যেতে পারবে না

তরুণ প্রিন্সের আন্তরিকতাই শুধু চালকশক্তি বলে মনে হয় নাএর পিছনে একটি অর্থনৈতিক দৃঢ়ভিত্তিও ক্রিয়াশীল রয়েছেবহুমুখিতাহীন অর্থনীতিতে তেলের নিম্নমূল্য ক্ষমতাসীন রাজপরিবারকে শিখিয়েছে যে রাষ্ট্রের সার্বিক অর্থভান্ডার আর বেশিদিন রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতার বর্তমান ধারা বহাল রাখতে পারবে নাপুরনো অভ্যাসকে বিসর্জন দেয়া ছাড়া আর ভালো কিছু হতে পারে নাঅতীতে ক্ষমতাসীনদের সার্বক্ষণিক ভুল ছিল যে তারা স্বল্প মেয়াদে ক্ষমতা ধরে রাখার চিন্তা করেছেন, নাগরিকদের জন্য উদার ভর্তুকি প্রদান করেছেন এবং আলেম সমাজের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে তাদের ব্যাপক স্বাধীনতা দিয়েছেন

১৯৯০ ও ২০০০ -এর দশকে আমি সৌদি আরবে বাস করার সময় সৌদি ভূখন্ডে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেধর্মীয় পুলিশ লোকজনকে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শন করছে, শরিয়া আইন বলবত করছে অন্যদিকে সরকার উগ্রবাদের উত্থান মোকাবেলা করছে, কিন্তু দুইয়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন বা মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হচ্ছে- এটা দেখা ছিল এক হতাশাজনক বিষয়তবে তখন থেকে মানুষকে টেনে হিঁচড়ে নামাজে নিয়ে যাওয়া ও মহিলাদের মুখ ঢাকার জন্য হম্বিতম্বি করার বিষয়টির দায়িত্বে নিয়োজিত ধর্মীয় পুলিশের হাত শিথিল হয়ে আসে

হাউস অব সৌদ সর্বশেষ বিবৃতির সর্বাপেক্ষা বিস্ময়কর দিক হল সৌদি তরুণদের একঘেয়েমি ও নিষ্ক্রিয় অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে উল্লেখ করা যে দেশের পরিচালকশক্তি তাদের এ অবস্থা উপলব্ধি করতে পারছে নাপ্রিন্স মুহম্মদ সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে উদারতিনি জোর দিয়ে বলেন, নাগরিক ও রাষ্ট্রের মধ্যে একটি এক নতুন চুক্তি ছাড়া অর্থনৈতিক পুনর্বাসন ব্যর্থ হবে

সৌদি রাজপরিবারের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য বলেন, এটা একটি শিশুকে সামাজিক জীবন দেয়ার মততাদের জন্য বিনোদনের একটি সুযোগ থাকা উচিৎতারা একঘেয়েমিতে আক্রান্ত ও অসন্তুষ্টএকজন মহিলার নিজে গাড়ি চালিয়ে কাজে যাওয়া প্রয়োজনতাছাড়া আমরা সবাই ব্যর্থছোট শহরগুলোর মানুষজন ছাড়া সবাই তা জানেতবে তারা শিখবে

সৌদি আরবে উগ্রবাদের ইতিহাস ইরানি বিপ্লব থেকে শুরু হয়নিএ হচ্ছে ধর্মের রূঢ় প্রয়োগের ফল যা হয়েছে কট্টরপন্থী আলেম সমাজকে স্কুল পাঠক্রম থেকে সরকারী আদেশ আইন পর্যন্ত সর্বত্র অবাধ স্বাধীনতা প্রদানের ফলেরাজপরিবারের জন্য তা ভালো হয়েছে এ জন্য যে এটা একটি ধর্মীয় গোষ্ঠিকে তুষ্ট রেখেছে যারা দূরে সরে থাকলে গুরুতর অঘটন ঘটতে পারত (১৯৭৯ সালে ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের মক্কা শরীফের অবরোধের মত)এবং তা এক ধরনের স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না

সৌদি অস্থিরতার কেন্দ্রে কি আছে তার প্রকৃত কোনো হিসেব নেইএটি গণতন্ত্রের অভাবের মত মামুলি ব্যাপার নয়, এটা হচ্ছে সেই সত্যের সম্মুখীন হওয়ার ব্যর্থতা যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের ব্যবহার সব সময়ই পাল্টা আঘাত হানেবিষয়গুলো আশাব্যঞ্জক বলে দেখা যায়কিন্তু যদি তা থেকে শিক্ষা নেয়া যায তখনি প্রকৃত আশা সৃষ্টি হয়

Tuesday, December 19, 2017

মক্কা শরীফের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আবার তুর্কিদের কাছে দেয়া হোকঃ সালমান হোসাইন নদভী

মক্কা শরীফের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আবার তুর্কিদের কাছে দেয়া হোকঃ সালমান হোসাইন নদভী


মক্কা শরীফের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আবার তুর্কিদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন সাইয়্যিদ মুহম্মদ সালমান হোসাইন নদভী। ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে তিনি বলেন, আজকে মুসলিম বিশ্বের যে অবস্থা তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। উনিশ শতকে যেসব বিপর্যয় মুসলমানদের ওপর পতিত হয়েছে তাদের শাসকদের কারণে তা দিন দিন বাড়ছে এবং ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে।

বর্তমানে মুসলিম উম্মাহর রাজনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা সৌদি আরবের। তাদের রাজনীতি দ্বিমুখী এবং তারা হারামাইন শরীফাইনকে বাহনবানিয়ে রেখেছে। সমস্ত মুসলমানকে এই কথা বলে দেয়া উচিৎ যে, জাজিরাতুল আরব হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাতের হারাম শরীফ।

নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার ওফাৎ এর আগে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই ওসিয়ত করে গেছেন, জাজিরাতুল আরব থেকে মুশরিক ও ইহুদিদের বের করে দিও। তাই হজরত ওমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই মূল্যবান ওসিয়তের ওপর আমল করতে গিয়ে জাজিরাতুল আরবকে পবিত্র করেছিলেন। পরে তেরশ বছরের শাসনকালে কারও এই হিম্মত হয়নি যে, জাজিরাতুল আরবে তাদের পুনর্বাসন করবে।

গোটা ইতিহাসে প্রথমবার যে শাসন গোপনে জাজিরাতুল আরবকে ব্রিটেন ও আমেরিকার কাছে সমর্পণ করেছিল, তাদের সঙ্গে গোপনে চুক্তি করেছিল; তাদের সামরিক বাহিনীকে এখানে ঠাঁই করে দিয়েছিল, যারা জাজিরাতুল আরবের সম্পদের বড় অংশটি ভোগ করছে, সেই শাসক ছিল আলে সৌদের।

আলে সৌদ মুসলিম মিল্লাতের এই হারাম শরীফ ও মুসলিম উম্মাহর ভাণ্ডারকে অবৈধভাবে আমির ও শাহজাদাদের ভোগ-বিলাসের জন্য ব্যবহার করেছে। যা আমাদের চেয়ে বেশি জানে আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সরকার এবং সেসব দেশের জনগণ।

যেকোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান বা প্রধান নির্বাহীর একটি বেতনভাতা থাকে। তিনি চাইলেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিজের ইচ্ছামতো ভোগ করতে পারেন না। আর ইসলামে তো এর অনুমতি কোনোভাবেই দেয়নি।

ইসলাম এই শিক্ষা দিয়েছেন, হজরত ওমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদে খুৎবা দিচ্ছিলেন আর একজন সাধারণ মুসল্লি দাঁড়িয়ে উনাকে পোশাকের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলেন। ইসলামের এসব দৃষ্টান্ত সজীব রাখা জরুরি।

আজকে সৌদি আরবের কার্যকরী শাসক মুহাম্মদ বিন সালমান এবং তার বাবা শাহ সালমান সব সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। তাদের সম্পদের দাস্তান আলিফ লায়লা এবং জাহেলি যুগের ইরান ও রোম শাসকদেরও ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এই ভোগবিলাস এবং স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের ব্যাপারে গোটা মুসলিম বিশ্ব তাদের প্রশ্ন করার অধিকার রাখে।

দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের সফর বিশেষ করে মরক্কো ও রাশিয়ার সাম্প্রতিক সফরে তাদের অপব্যয়ের চিত্র প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যমগুলোতে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়েছে।

বর্তমানে জাজিরাতুল আরবকে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কোলে সমর্পণের যে লজ্জাজনক খেলা চলছে তা আর কোনো গোপন বিষয় নয়। দুনিয়ার সবচেয়ে অসভ্য ও নির্লজ্জ শাসক ডোনাল্ট ট্রাম্পকে তারা রিয়াদে আমন্ত্রণ জানিয়ে মুসলমানদের অপদস্থ করেছে। মুসলিমদের নিদর্শনকে তার (ট্রাম্প) দ্বারা পদদলন করা হয়েছে।

বর্বর ইসরাইলের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী হামাসকে তারা সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইসরাইলে গোপনে সফর করেছে। আল কুদসশহরকে ইসরাইলের রাজধানী করতে ফিলিস্তিনিদের অন্য কোনো দেশ অথবা দ্বীপে পুনর্বাসনের গোপন প্ল্যান করেছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ডেকে ধমক দিয়েছে।

নিজ দেশের (সৌদি আরব) খ্যাতিমান আলেমদের গ্রেপ্তার করে দুর্নীতির তকমা লাগিয়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লুকোচুরি খেলেছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে ধনাঢ্যদের সম্পদের অংশ নিয়ে তাদের দায়মুক্তি দিয়েছে।

সবশেষ খ্রিস্টবাদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের গভীরতা এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, যিশুখ্রিস্টের ছোট্ট একটি পেন্টিং ৪৫০ মিলিয়ন ডলারে কিনতে হয়েছে। এমনিতেই নবীদের ছবি ধারণ করা হারাম। আর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম. উনার ভুয়া ছবি কেনার জন্য একটি ছোটখাট দেশের মোট বাজেটের সমান অর্থ ব্যয় করেছে সৌদি আরব।

অথচ ইয়েমেন শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের বোমায় ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে। তাদের দুর্ভিক্ষে ফেলা হচ্ছে। ৬৫টি দেশের সঙ্গে মিলে তিন বছর ধরে সিরিয়া ও ইরাকের লাখ লাখ মানুষকে ক্ষুধার্ত রেখে মৃত্যু উপত্যকায় ঠেলে দিচ্ছে।

ফিলিস্তিনের ইতিহাস রক্তে রঞ্জিত। কিন্তু ইহুদিদের গোপন বন্ধু (সৌদি আরব) কখনও তাদের সহযোগিতা করেনি। অভিশপ্ত ইহুদিদের সঙ্গে কখনও যুদ্ধ করেনি। বরং তাদের বিরুদ্ধে কুরআনের যে আয়াত আছে তা না পড়াতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে স্কুল-কলেজে।

তাদের মুরব্বিট্রাম্প যখন জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দিলো তখনও তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই তাদের মুখে। এমনকি এই ঘোষণার দুই তিন দিন পর জুমার খুতবায় ইমামদের এ ব্যাপারে কিছু বলতে পর্যন্ত দেয়নি।

মুসলমানদের জানা উচিৎ, হারামাইন শরীফাইনের  মিম্বর আজ ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর জন্য নয়। বরং সৌদি শাসকদের অশুভ রাজনীতির প্রতি সমর্থন যোগানোর জন্য। সৌদি শাসক আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন আলেমদের মুখে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। আর আত্মমর্যাদাহীন শাসকপূজারি আলেমদের বসানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদে।

এই অবস্থায় সমগ্র মুসলিম জাতির জন্য উচিত হলো তাদের মুখোশ বিশ্ববাসীর সামনে ফাঁস করে দেয়া। আর হারামাইন শরিফাইন ও জাজিরাতুল আরবের ব্যবস্থাপনাকে মুসলিম বিশ্বের কাছে সম্মিলিতভাবে সমর্পণের জন্য দাবি জানানো।

তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এসব দেশের যৌথ সংস্থার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।

এই প্রোপাগাণ্ডায় বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ নেই যে, ইরানের শিয়াদের কর্তৃত্ব হারামাইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। এটা নির্জলা মিথ্যা। তারা তো সিরিয়া, লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেন শিয়াদের কাছে সোপর্দ করে রেখেছে। আগেও করেছে এখনও করছে।

কিছু নির্বোধ তাদের (সৌদি) পক্ষে সুর উঁচু করছে। এর দ্বারা মূলত তারা মুসলমানদের চোখে ধুলো দেয়ার চেষ্টা করছে। এই মুহূর্তে গোটা মুসলিম বিশ্ব তুরস্কের সঙ্গে। তুরস্কের কাছে হারামাইন শরিফাইনের সম্মান সবচেয়ে বেশি। এজন্য বিশ্ব মুসলিমদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা উচিৎ, হারামাইনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আবার তুর্কিদের কাছে হস্তান্তর করা হোক।

আর ইহুদি-খ্রিস্টানদের সঙ্গে চুক্তিকারী আলে সৌদকে বরখাস্ত করা হোক। এবার আমাদের দেখা উচিৎ কত মুসলমান এই দাবির পক্ষে একমত। এটি মূলত একটি বৈশ্বিক গণভোট। এর দ্বারাই মুসলিমদের ভাগ্য নির্ধারণ হওয়া চাই।

অনুবাদ: জহির উদ্দিন বাবর

মতামত প্রদানেঃ ভারত উপমহাদেশের প্রখাত আলেম আল্লামা সাইয়্যেদ আবুল হাসান আন নদভীর নাতি ও জমিয়ত সাবাব আল ইসলাম হিন্দের প্রেসিডেন্ট আল্লামা সাইয়্যিদ সালমান হোসাইনী আন নদভী।

Monday, December 18, 2017

সৌদিতে সংস্কারের ঝড়ে এক বছরেই ১০ হারাম এখন হালাল হয়ে গেছে

সৌদিতে সংস্কারের ঝড়ে এক বছরেই ১০ হারাম এখন হালাল হয়ে গেছে


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কারে এ বছর অন্তত ১০টি বিষয় হারাম থেকে পরিণত হয়েছে হালালে। ৩৫ বছর পর সিনেমা হারাম থেকে হালাল হয়ে যাওয়ার পর পশ্চিমা চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা ছুটছেন রিয়াদেআর এটাই বর্তমানের  আধুনিক সৌদি আরব।

বিনিয়োগ হচ্ছে বিলিয়ন ডলারের। তার আগে সৌদি আরবে কোনো চলচ্চিত্র একাডেমি করে চলচ্চিত্র নির্মাণ বা প্রশিক্ষণের কোনো প্রয়োজন মনে করেনি। ফলে পশ্চিমা অপসংস্কৃতির জোয়ারে সৌদি সংস্কৃতি ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে কয়েক বছরের মধ্যেই। ভিশন ২০৩০ এর অংশ হিসেবেই এ সংস্কারে সৌদি আরব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা এখনি পুরোপুরি ঠাহর করা যাচ্ছে না।


প্রথমেই সংস্কারের অংশ হিসেবে গত সেপ্টেম্বরে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখন সৌদি নারীরা মোটর সাইকেল এমনকি ট্রাকও চালাতে পারবেন। এতদিন সৌদি ধর্মীয় নেতারা বয়ান করতেন নারীরা পুরুষের চেয়ে মস্তিষ্ক শক্তি এক তৃতীয়াংশ ধারণ করে বলে তারা গাড়ি চালাতে পারে না।

এমনও বলেছেন নারীরা গাড়ি চালালে জরায়ুর ওপর চাপ পড়ে তাদের স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে। সেই ধর্মীয় নেতারা এখন বেমালুম চুপ হয়ে গেছেন। অথচ এর আগে গাড়ি চালানোর দায়ে অনেক সৌদি নারীকে গ্রেফতার করে কম হেনস্তা করা হয়নি।


সৌদি সঙ্গীত জগতে পশ্চিমা কনসার্ট ও পপ সঙ্গীতের জোয়ার বইতে শুরু করেছে। এসেছেন ইয়ানি, নেলির মত সব বিখ্যাত পশ্চিমা সঙ্গীত শিল্পীরা। পাইপ লাইনে আরো যারা আসবেন তাদের কনসার্টে উপচে পড়া সৌদি নারী পুরুষ দর্শকদের তালমাতাল উচ্ছাস দেশটির সংস্কৃতি কোনদিকে পৌঁছাবে বলা মুস্কিল। যদিও সৌদি ধর্মীয় নেতাদের মত গান বাজনা হারাম, এমন অন্য দেশের আলেমরা বয়ান করতেন তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না তারা এখন কোন মুখে কি বলবেন।

মার্কিন পপ সঙ্গীত ভিত্তিক যত আয়োজনের তোড়জোড় চলছে সৌদি আরব জুড়ে। এ বছরের শুরুতেই ফেব্রুয়ারিতে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পপ সঙ্গীত সম্মেলন কমিক কনঅনুষ্ঠিত হয়ে গেল যেখানে পপ আর্ট, ভিডিও গেমিং, চলচ্চিত্র বিষয়ক বিভিন্ন ইভেন্টে আন্তর্জাতিক কলাকুশলীরা অংশ নেন। যেখানে সৌদি আরবের মত দেশে চলচ্চিত্র দেখার মত বিষয় কল্পনাতেও স্থির ছিল না।

সৌদি সংস্কৃতিকে ধারণ করেই কোনো চলচ্চিত্র বা পশ্চিমা হলিউড বা অস্কারের কোনো বিকল্প পথে সৌদি আরব কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজন পর্যন্তটুকু অনুধাবন না করে এ খাতে ছেড়ে দিচ্ছে পশ্চিমা বিনিয়োগকারীদের হাতে। যেখানে নারী ও পুরুষের পৃথক বিনোদন ছিল সিদ্ধ সেখানে সিনেমাহলগুলোতে একসঙ্গে নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও দর্শক হয়ে চলচ্চিত্র উপভোগের ব্যবস্থা হারাম থেকে হালাল হয়ে গেছে। রেস্টুরেন্টে পর্যন্ত সৌদি নারী ও পুরুষদের পৃথক বসার ব্যবস্থা অবশ্য এখনো চালু আছে।


প্রথমবারের মত স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে নারী ও পুরুষ আগামী বছর একসঙ্গে খেলা দেখতে পারবেন। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত সৌদি সমাজে এখনো নারীরা প্রকাশ্যে খেলাধুলায় অংশ নিতে পারে না।

আরেক সংস্কারের অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে বিনোদন শহর। রিয়াদের বাইরে ৩৩৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ বিনোদন কেন্দ্রে থাকছে সাফারি পার্ক, খেলাধুলার ব্যবস্থা, থিম পার্ক ও অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা। পুরো পশ্চিমা ধাঁচেই এসব বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এর বাইরে ৬টি মার্কিন ডেভলপার প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ধারাবাহিকভাবে একাধিক থিম পার্ক সারা সৌদি আরবে নির্মাণের জন্যে।

সৌদি আরবে মিউজিক কনসার্ট এখন উপভোগের বিষয়। আরব দেশ ও আন্তর্জাতিক পপ সঙ্গীত শিল্পীরা একদিকে আসছেন, শো করছেন, উপচে পড়া দর্শক দেখে বিস্ময় বোধ করছেন, আরেকদিকে বিমান থেকে নামছেন আরেক দল পপ তারকা। ইয়েমেনের পপ তারকা সৌদি মাত করার পর গত সপ্তাহে আসেন লেবাননের পপ তারকা হিবা তাওয়াজি।

এমনিতেই সৌদি নাগরিকরা বাহরাইন ও দুবাইতে যেয়ে পশ্চিমা ধাঁচের চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচের খ্যাতি আছে। এধরনের খ্যাতি অর্জন সৌদি শেখরা ভারত থেকে শুরু করে পশ্চিমা দেশগুলোতেও যেয়ে করেছেন।

পাকিস্তানে হুবারা পাখি একমাত্র শিকার করেন আরব শেখরা। দিন কয়েক আগেই কয়েকশ উটের বহর পৌঁছে গেছে হুবারা পাখি শিকারে পাকিস্তানে। ভারতে এসে অল্পবয়স্কা গরীব মেয়েদের বিয়ে করে ভোগের পর পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ইতিহাস দীর্ঘ।

কাজের মেয়েদের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের ধকল সইতে না পেরে নেপাল, থাইল্যান্ড সহ একাধিক দেশ সৌদি আরবে নারী গৃহ শ্রমিক পাঠানো বন্ধ ঘোষণা করেছে বহু আগেই। ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান বলছেন এ ধরনের ফুর্তি যা করার সে পরিবেশ সৌদি আরবেই তৈরি করতে যাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিদেশে অপচয় না হয়ে দেশটিতেই খরচ হয়। উৎপাদনশীল অর্থনীতি, উদ্যোক্তা বিকাশের বাইরে পুঁজি ও মেধা থাকা সত্ত্বেও সৌদিরা তা পশ্চিমাদের হাতে তুলে দিয়ে ভোগের চোরাবালিতে নিমজ্জিত হচ্ছে।

প্রথমবারের মত সিনেমা শুধু জায়েজ করা হয়নি আগামী বছর থেকে লাইসেন্ট দেওয়া হচ্ছে সিনেমা হল চালু করার জন্যে। প্রথমেই মার্কিন চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান এএমসি এন্টারটেইনমেন্ট হোল্ডিংএর সঙ্গে চুক্তি করেছেন সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে সিনেমা প্রদর্শনের জন্যে। এ মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর বিশ্বে অন্তত ১ হাজার চলচ্চিত্র পরিবেশন করে।


বিদেশি পর্যটকদের জন্যে ভিসা সহজ করে দিয়েছে সৌদি আরব। তারা সৌদি আরবে এসে খুব সহজেই বিনোদন কেন্দ্রে, থিম পার্কে, সিনেমা দেখতে, কনসার্টে যেতে, ওয়াটার পার্কে ফুর্তি করতে পারবেন। সেদিন বেশি দূরে নয় পশ্চিমা ধাঁচে স্বল্পবসনায় বিশ্বসুন্দরীদের আসর কিংবা দুবাইয়ের মত সাগর সৈকতে ললনাদের খুল্লামখুল্লা মার্ক ছবি দেখা যাবে মিডিয়ার পাতায়।

কোনো বিদেশি পর্যটক আগে এসে দুই সপ্তাহের ভিসা পেতেন। তাও ট্রানজিট প্যাসেঞ্জার হিসেবে। এখন অবশ্য পবিত্র কাবা শরীফের পাশেই ইহুদি পর্যটকের সেলফি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর এধরনের ছবি তোলায় বিধি নিষেধের কথা বলা হচ্ছে।

সৌদি সৈকতে কি বিকিনিও হালাল হতে যাচ্ছে। পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সৌদি সৈকতগুলোতে বিচ রিসোর্টগুলোকে ঢেলে সাজানোর। আন্তর্জাতিকিকরণ ও আধুনিক করার নামেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে।

বলা হচ্ছে এসব সৈকতে বিকিনি পড়ে ঘুড়ে বেড়ানো বা পানশালা যাই হোক না কেন তা অনায়াসে টেক্কা দেবে আন্তর্জাতিক বিনোদন কেন্দ্রের যে কোনোটিকে। শিথিল করা হচ্ছে নারীর পোশাকেও। এখনো অবশ্য হিজাব পড়ে চলাফেরার বিধি রয়েছে। সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের গৃহীত দি রেড সি প্রজেক্টে তা বিকিনিতে গিয়ে ঠেকলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।


এবারই প্রথম সৌদি নারী পুরুষ গান গেয়ে রাজপথে বিজয় দিবস উদযাপন করেছেন। রিয়াদে সেদিন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে প্রথমবারের মত সৌদি নারীদের দেখা গেছে। খুব বেশি হলে সৌদি নারীরা আগে ফুটবল খেলা দেখতে শুধুমাত্র নারীদের জন্যে সংরক্ষিত আসনেই বসতে পারতেন। তারা এখন অনায়াসে সিনেমা হলে, কনসার্টে অবাধে বসতে পারছেন।

ইয়োগা হালাল হয়ে গেছে সৌদি সংস্কৃতিতে। রীতিমত দাফতরিক ডিক্রি জারি করে ইয়োগা প্রশিক্ষণের দিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে ইয়োগা সেন্টার স্থাপনে। তবে এসব সংস্কার নিয়ে কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা করলে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ ধরনের আটকের নিন্দা জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বাকস্বাধীনতার দাবি করে আসছে। এ বিষয়ে সংস্কারের কোনো ইচ্ছা বিন সালমানের দেখা যাচ্ছে না।

বরং পুরো বিশ্ব যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণায় ফুঁসে উঠেছে তখন সৌদি রয়াল কোর্ট ডিক্রি জারি করে বলেছে কোনো ধরনের প্রতিবাদ বিক্ষোভ যেন দেশটির মাটিতে না হয়। পশ্চিমা সংস্কৃতির বহর সৌদি আরবকে কোথায় নিয়ে যাবে তা ভেবে পুরো মুসলিম বিশ্ব শঙ্কিত। হয়ত এজন্যেই তুরুস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন, জেরুজালেমকে রক্ষা করতে না পারলে একদিন হয়ত মক্কা শরীফ ও মদিনাকে শরীফকেও আমরা হারাব।