Showing posts with label জাতীয়. Show all posts
Showing posts with label জাতীয়. Show all posts

Wednesday, December 20, 2017

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় শিবির কর্মী আটক

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় শিবির কর্মী আটক

স্বদেশ বার্তা ডেস্কঃ ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি ও আপত্তিকর ছবি পোস্ট করায় ঝালকাঠিতে মো: মাইনুল ইসলাম (২২) নামে এক  শিবির কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকালে আটক করা হলেও সন্ধ্যার পর বিষয়টি জানা যায়। সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের মধ্যো গুয়াটন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক মাইনুল ইসলাম ঢাকা কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি গুয়াটন এলাকায়। মাইনুল ঢাকা কলেজের সক্রিয় শিবির কর্মী বলে জানা গেছে।

তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা নিতে পুলিশ সদর দফতরের অনুমতি প্রয়োজন বিধায় তাকে ৫৪ ধারার আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের অনুমতি চেয়ে সদর সফতরে আবেদন করা হয়েছে। গ্রেফতার মাইনুল আদালতে বসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি শিবির কর্মী বলে স্বীকার করেছেন।

ঝালকাঠি সদর থানার এসআই ফারুক হোসেন জানান, মাইনুল তার ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটূক্তি করার বিষয়টি স্বীকার  করেছে। অভিযোগের বিষেয়ে স্কিনশট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মাইনুলকে আটক করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের আনুমতি চাওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের অনুমতি পেলে ৫৭ ধারায় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঝালকাঠি পুলিশ সুপার জোবায়েদুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজতে ইসলামের আমিরকে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার ১

প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজতে ইসলামের আমিরকে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার ১

স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফীকে কটূক্তির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে সরাইল উপজেলার বাড্ডাপাড়া থেকে আবু সালেককে গ্রেফতার করা হয়।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজ উদ্দিন জানান, আবু সালেক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন অন্যের ফেসবুক থেকে ছবিগুলো সংগ্রহ করে নিজ আইডিতে পোস্ট দিয়েছেন।

ওসি সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সরাইলের চুন্টা এলাকার মাওলানা আতিক উল্লাহ্ বাদী হয়ে সরাইল থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। তবে বিষয়টি তথ্য প্রযুক্তি আইনে অপরাধ হওয়ায় মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দফতরের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরে আবেদন করা হয়েছে। তাই তাকে আপাতত দণ্ডবিধির ৫৪ ধারা দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কটূক্তির ঘটনায় পুরো সরাইলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় সরাইল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হেফাজতে ইসলাম সরাইল উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম জানান, সরাইল চুন্টা এলাকার মুরগি বিক্রেতা আবু সালেক গত এপ্রিল মাস থেকে হেফাজতের আমির আহমদ শফী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করে আসছিল। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

জেলা ছাত্র খেলাফত আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় তৌহিদী জনতা সরাইল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে কোনও আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
শাহজালাল বিমানবন্দরে শিডিউল বিপর্যয়ে দুর্ভোগে যাত্রীরা

শাহজালাল বিমানবন্দরে শিডিউল বিপর্যয়ে দুর্ভোগে যাত্রীরা


স্বদেশ বার্তা ডেস্কঃ গত দুদিনে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত ১১টার পর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠা-নামা বন্ধ থাকায় শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।  দীর্ঘসময় ফ্লাইট না ছাড়ায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। একের পর এক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে না যাওয়ায় উত্তেজিত হয়ে পড়েন তারা। এদিকে  আরও দুদিন ঘন কুয়াশার প্রকোপ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। ফলে  আগামী দুদিনের আগে  কাটছে না এ সংকট। বিমানবন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকার বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে বায়ুর ঘূর্ণন বিরাজ করছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছেমৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান  করছে। আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানান, ‘পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার  সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। বৃহস্পতিবার ঘন কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে যানবাহন, নৌযান, উড়োজাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে।

বিমানব্ন্দর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার  রাত থেকে প্রায় দশ ঘণ্টা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামা বন্ধ ছিল। কোনও কোনও ফ্লাইট ঢাকার পরিবর্তে নামতে হয়েছে কলাকাতায়।

সিভিল এভিয়েশন অথরিটির  জনসংযোগ কর্মকর্তা একেএম রেজাউল করিম জানান, ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কুয়াশার কারণে ভিজিবিলিটি কমে যাওয়ায় উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণ বিঘ্নিত হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটের পর থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ এবং  সকাল ১০টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল।

বিমানবন্দরে একজন কর্মকর্তা জানান, ঢাকায় কুয়াশার কারণে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে থাই এয়ারের একটি ফ্লাইট শাহজালালে অবতরণ করতে না পেরে ব্যাংককে ফিরে যায়। সৌদিয়ার একটি ফ্লাইট রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করতে না পেরে  কলকাতায় অবতরণ করে। রাত ১২টা ৫০ মিনিটে চীনের একটি কার্গো বিমান ঢাকায় নামতে না পেরে চলে যায় মান্দালয়। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বিমানের রিয়াদগামী ফ্লাইট কুয়াশায় বিলম্বিত হয়ে সকালে ১১টা৩০ মিনিটের দিকে ছেড়ে যায়। ভোর ৪টায় দিকে গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইট ঢাকার পরিবর্তে চলে যায় কলকাতায়।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘন কুয়াশায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট না ছাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। বোডিং কার্ড ইস্যুর পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।  দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও কোনও কোনও এয়ারলাইন্স যাত্রীদের খাবার ও পানি সরবরাহ না করায় উত্তেজনা দেখা দেয় তাদের মধ্যে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশকেও বেগ পেতে হয়।

এয়ারপোর্ট আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়েনের  (এএপিবিএন) সহকারী পুলিশ সুপার তারিক আহমেদ উস সাদিক বলেন, ‘কুয়াশার কারণে  বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণ বিঘ্নিত হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘কুয়াশার মতো প্রাকৃতিক সমস্যায় আমাদের কিছু করার থাকে না।  যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্যই ঘন কুয়াশার সময় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়।তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ট্রানজিট যাত্রী থাকেন, তাদের আরেকটি ফ্লাইটে উঠতে হবেফ্লাইট বিলম্বিত হলে তাদের সমস্যা বেশি হয়। তবে, আমরা যাত্রীদের যথাসম্ভব পরিস্থিতি বুঝিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। এছাড়া, তাদের খাবার ও পানি যেন এয়ারলাইন্সগুলো সরবরাহ  করা হয়, সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
রংপুরে ভোট শুরু

রংপুরে ভোট শুরু


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের ১১২২টি বুথে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। মোট ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দেবেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন। এটি এই সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচন।

ভোটারদের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৬ জন এবং নারী এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো রংপুর সিটি করপোরেশনে ভোট হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা গত ৫ নভেম্বর এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে গত ৪ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। কাউন্সিলর পদে ২১১ জন, সংরক্ষিত আসনে ৬৫ জন এবং মেয়র পদে সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র পদে প্রধান তিন দলের মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের সরফ উদ্দিন আহাম্মেদ ঝন্টু (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা (ধানের শীষ) ও জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার (লাঙল) মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে  ধারণা করা হচ্ছে। তাদের পক্ষে নিজ নিজ দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও রংপুরে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৬টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কোনও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই।

বুধবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আইনশঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন। নির্বাচন নিয়ে কোনও ধরনের আশঙ্কা নেই।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নগরীতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বহিরাগতদের নগরী ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার রংপুর নগরীর সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আধা সরকারি সংস্থা, সব অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পেঁয়াজের কেজি সাড়ে ১১ টাকা

পেঁয়াজের কেজি সাড়ে ১১ টাকা


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশসহ এশিয়ার বেশকিছু দেশে পেঁয়াজের বাজার যখন অস্থির, তখন ভারতের নাসিকে এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৯ রুপি যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১.৬৪ টাকা। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এশিয়ান এজের খবরে বলা হয়েছে, সেখানকার এগ্রিকালচার প্রডিউস মার্কেটিং কমিটি (এপিএমসি) বাজারে এই দর হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে কিছুদিন আগে এই দর ছিল ১৫ রুপি। এই বাজারে গেলো তিন মাস পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এক পর্যায়ে তা ৪০ রুপিতে পৌঁছায়। এপিএমসি বাজার হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ভারতের রাজ্য ও বাজারগুলোকে ভৌগোলিকভাবে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়, যা মণ্ডি হিসেবে পরিচিত। একটি রাজ্যের অভ্যন্তরে বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি মণ্ডি বসানো হয়। কৃষকদের তাদের উৎপাদিত পণ্য এসব মণ্ডিতেই নিলামে বিক্রি করতে হয়।

যেকোনো মণ্ডিতে কেবল লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীরাই কার্যক্রম চালাতে পারেন। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানিগুলো কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কিনতে পারে না। এই বাজারের ব্যবসায়ী নেতা রমেশ দেওরি জানান, কিছুদিন আগে চাহিদা বেশি ছিল। আর এখন যোগান বেশি। এটা বাজারের সাধারণ নীতি। যোগান অনুযায়ী রপ্তানিও হচ্ছে না।

রাসূলুল্লাহর হাদিসকে অশ্লিল আখ্যা দিলো ভোরের কাগজের শ্যামল দত্ত ও অভিজিৎ ভট্টাচার্য

রাসূলুল্লাহর হাদিসকে অশ্লিল আখ্যা দিলো ভোরের কাগজের শ্যামল দত্ত ও অভিজিৎ ভট্টাচার্য

ইকবাল আহমেদ শামীমঃ আজকে দৈনিক ভোরের কাগজের ১ম পৃষ্ঠায় অভিজিৎ ভট্টাচার্য নামের এক সাংবাদিক “মাদ্রাসার বইয়ে অশ্লীলতা” নামের একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছে। এই প্রতিবেদনে মুসলমানদের প্রিয় নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস শরীফ কে অশ্লীল এবং ব্যাঙ্গাত্মক আখ্যা দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্যবই হিসেবে ছাপা হওয়া মাদ্রাসার দাখিল স্তরের নবম-দশম শ্রেণির আল হাদিস বইয়ের ৫৩ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে,
একদা এক ব্যক্তি হজরত রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেনআমি কি আমার মায়ের কাছে প্রবেশ করতে অনুমতি প্রার্থনা করবতিনি বললেন হ্যাঁ। তখন লোকটি বললআমি তো তার খাদেম। হজরত রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনতুমি তার কাছে অনুমতি চাও। তুমি কি তোমার মাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পছন্দ করো?’

এই হাদিস শরীফ কে অশ্লীল আখ্যা দিয়ে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির আকায়েদ ওয়াল ফিক্হনবম ও দশম শ্রেণির কুরআন মজিদ ও তাজভিদ এবং আল হাদিস বইয়ের প্রায় ২৩ লাখ কপিকে ফেরৎ আনা হচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বিতরণকেন্দ্র থেকে। সেইসাথে এই প্রতিবেদনে অভিজিত ভট্টাচার্য নামের ওই প্রতিবেদক মাদ্রাসা শিক্ষা বোডের বইয়ে -
সর্বময় ক্ষমতা তথা আইনবিধানরাষ্ট্রনীতিঅর্থনীতিশাসন চলবে আল্লাহ তায়ালার নামেঅন্য কারো নয়।
* ‘আল কুরআন মুসলমানদের সংবিধান
এই বিষয়গুলোকে দেশদ্রোহী ও সরকাবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আর এই প্রতিবেদকের সাথে একমত হয়েছে বাংলাদেশ পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা কিছু ইসলাম বিদ্বেষি হিন্দুত্ববাদী ও উগ্র নাস্তিক্যবাদী মহল। (সুত্র - https://goo.gl/QDDxeU)

আমরা সবাই জানি বাংলাদেশ একটা শান্তিপ্রিয় মুসলিম দেশ। তার হাজার হাজার প্রমাণও আছে। প্রবাসে থাকলেও বাংলাদেশের খবরাখবর আমি প্রতিদিনই পেয়ে থাকি আমার অনেক বন্ধু বান্ধবের মাধ্যমে। আফসোস লাগে যে বাংলাদেশে অনেক মুসলিম রাজনৈতিক দল বিদ্যমান হওয়া  সত্বেও এভাবে মুসলিমদের ধর্মীয় বিষয় নিয়ে উগ্র হিন্দুরা জাতীয় দৈনিকগুলোতে অবমাননা করে চলেছে অথছ বাংলাদেশেরধর্মীয় দলগুলো হাত গুটিয়ে বসে আছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড হলো মুসলিমদের বোর্ড। সেই বোর্ডের বইগুলোতে কি থাকবে না থাকবে তা কি উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা কি নির্ধারণ করবেআর যদিও এগুলো নিয়ে আপত্তি করে তাহলে তা হবে মুসলিমদের ধর্ম অবমাননা। এমনকিমাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের একটি বইয়ে হাসিনা বেগম লেখা হয়েছে। এটাও নাকি দেশবিরোধী ও শেখ হাসিনা বিরোধী হয়ে গিয়েছে। কি আজব দেশ রে বাবা!

অথচবাংলাদেশের শিক্ষাবোর্ডের হিন্দুধর্ম বইগুলোতে এবং কিশোর কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নামের বইয়ে যৌনাঙ্গ সম্পর্কে নিখুত বর্ননা এবং কিভাবে সেক্স করতে হবে সে সম্পর্কেও বর্ননা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেগুলোকে অশ্লীল বলা হচ্ছেনা। অথচ মুসলিমদের এই হাদিস শরীফে অশ্লীলতার কোন বিষয়ই নাই। আসলে এগুলো ইচ্ছে করেই করা হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে হিন্দু শিক্ষা বোর্ডে পরিণত করার প্ল্যান করা হচ্ছে। দিন দিন সরকার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে অসাম্প্রদায়িকতার নামে ইসলামের সব ভাবধারা মুছে ফেলছে। বাংলাদেশের মুসলিমদের সচেতন হওয়ার এখনই সময়।
কাল রংপুর সিটিতে আসছে চমক

কাল রংপুর সিটিতে আসছে চমক


স্বদেশ বার্তা ডেস্কঃ সারা দেশের চোখ এখন রংপুর সিটিতে। আগামীকাল কার ভাগ্যে জুটবে মেয়রের পদ এ আলোচনা রাজনৈতিক মহলে। একদিকে এরশাদের ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত রংপুরে আলোচনার শীর্ষে জাতীয় পার্টি, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা বর্তমান মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু। থেমে নেই বিএনপিও। দলের মহাসচিব থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতারা ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন রংপুরে। ভোটাররাও মুখ খুলছেন না। চলছে শেষ মুহূর্তের ভোটের হিসাব-নিকাশ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চমক আসতে পারে আগামীকালের ফলাফলে। এখন শুধুই অপেক্ষা। এদিকে ভোটযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত প্রার্থীরা। বছরের শেষ ভোট সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন ঘিরে কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও সর্বত্র নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তা-বলয়। আজ রাত পোহালে কাল ভোট গ্রহণ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা এ ভোট গ্রহণ চলবে। ভোটের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে রংপুরে। বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় আজ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রংপুর জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণায় উত্তাল ছিল এই উত্তরের জনপদ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঘাম ঝরিয়েছেন তিন হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু, জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও বিএনপির কাওসার জামান বাবলা। এরই মধ্যে সোমবার মধ্যরাত থেকে বহিরাগতরা রংপুর ছেড়েছেন। গতকাল মধ্যরাত থেকে সব ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আজ মধ্যরাত থেকে আগামীকাল মধ্যরাত পর্যন্ত স্থলযান, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, ইজিবাইকসহ সব ধরনের যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সোমবার থেকেই মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে নির্বাচনে প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক, সাংবাদিকসহ নির্বাচনী এজেন্টদের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। একইভাবে জাতীয় মহাসড়কেও এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। মহিলা, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভোটারদের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবারই প্রথম রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে তিন দিনব্যাপী ওই কেন্দ্রের ভোটারদের অবহিত করতে ইভিএম পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি এবার নির্বাচনে তিনটি কেন্দ্রে থাকবে সিসি ক্যামেরাও। ইতিমধ্যে ওই কেন্দ্রগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। রংপুর সিটি করপোরেশনে ৩৩টি সাধারণ ও ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। মোট ভোটার তিন লাখ ৯৩ হাজার ৮৯৪ জন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯৬ হাজার ২৫৬ ও নারী ভোটার এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৯৩টি। ভোটকক্ষ এক হাজার ১৭৮টি। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা তিন হাজার ৫৫৯ জন। আগামীকালের ভোট নিয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবদুর রউফ সরকার বাংলাদেশ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের পাশাপাশি উদ্বেগও বিরাজ করছে। তবে এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সবাই সবাইকে চেনেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা চাই রংপুর সিটি করপোরেশনে একজন ভালো মানুষ মেয়র নির্বাচিত হোক। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রংপুরে এখনো সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ রয়েছে। তবে সামনে কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

শেষ মুহূর্তের প্রচারণা : আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু গতকাল সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে জাহাজ কোম্পানির মোড় এলাকায় গণসংযোগ করেন। পরে স্টেশন রোড, শাপলা চত্বরচব্বিশ হাজারীসহ কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা গতকাল সকালে বেরিয়ে পড়েন ভোট চাইতে। নগরের কাচারীবাজার, গোমস্তাপাড়া, মুন্সিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন তিনি। বিএনপির মেয়র প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা মাহীগঞ্জ, সাতমাথা, তাজহাট, রঘুবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন। অন্যদিকে বাসদের মেয়র প্রার্থী আবদুল কুদ্দুস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এ টি এম গোলাম মোস্তফা বাবু, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সেলিম আখতার এবং একমাত্র স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এদিকে মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি ৩৩টি ওয়ার্ডে পুরুষ ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরাও শেষবারের মতো গণসংযোগ করেছেন।

থকেছে বিশেষ নিরাপত্তা, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশ-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক। তিনি গতকাল সাংবাদিকদের জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। এদিকে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের নিরাপত্তায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাঁচ হাজার ৫০০ সদস্য। এর মধ্যে বিজিবির ২১ প্লাটুন (৬৩০ জন), র‌্যাবের ৩৩টি টিম (৪০০ জন) এবং পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবেন চার হাজার ৪৭০ জন। এ ছাড়া একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৩৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল থেকে নগরীতে বিজিবির সদস্যরা টহল শুরু করেছেন। মাঠে আছে ৩৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স। এদিকে নির্বাচনী মাঠে নামছে নির্বাচন কমিশনের ১১টি নীরব পর্যবেক্ষকদল। ইসির নিজস্ব এসব কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রেখে নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুরের প্রবেশদ্বার, রংপুর শহর, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক চৌকি। পাড়া-মহল্লায় র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি টহল দিচ্ছে।

১৯৩ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিই ঝুঁকিপূর্ণ : রংপুর সিটি নির্বাচনে ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। রিটার্নিং ও রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হবে।

এক কেন্দ্রে ইভিএম : ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র একটিতে ইভিএম ব্যবহারের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এটি হলো নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪১ নম্বর কেন্দ্র সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ। এ কেন্দ্রের ছয়টি বুথে ইভিএমে ভোট দিতে পারবেন দুই হাজার ৫৯ জন ভোটার। গতকাল পর্যন্ত ভোটারদের ইভিএমে ভোট দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

তিন কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা : ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো হলো ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজ কেন্দ্র।

নির্বাচনসামগ্রী কেন্দ্রে যাবে আজ : রিটার্নিং ও রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনসামগ্রী পাঠানো হবে।

সুজনের মানববন্ধন : অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে গতকাল সকালে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। এ সময় বক্তৃতা করেন জেলা সুজনের সভাপতি আকবর হোসেন ও মহানগর সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু।

Tuesday, December 19, 2017

জোটবদ্ধ হয়ে জামায়াতের নির্বাচন ঠেকাতে ইসিতে আবেদন

জোটবদ্ধ হয়ে জামায়াতের নির্বাচন ঠেকাতে ইসিতে আবেদন


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ নিবন্ধন বাতিল হওয়া স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াত নেতারা যেন জাটবদ্ধ হয়ে অন্য দলের প্রতীকে বা অন্য দলে যোগ দিয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন-এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে তিনটি বাম দল।

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করে এই অনুরোধ জানায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।

দলগুলোর নেতারা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন সিইসির সঙ্গে। এ সময় তারা আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ১৮টি দাবি তুলে ধরেন। এই দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল জামায়াতের ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া।

একটি ধর্মভিত্তিক দলে আবেদনের পর ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে উচ্চ আদালত। এই রায়ের পর দলটি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তবে দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

আবার জাতীয় নির্বাচনে অনিবন্ধিত দলের কোনো নিবন্ধিত দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হিসেবে ভোটে অংশ নেয়ার সুযোগ আছে। জামায়াত যেহেতু বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ তাই বিএনপির ধানের শীষ বা জোটের অন্য কোনো নিবন্ধিত শরিকের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ আছে জামায়াতের। আর এই সুযোগটাই বন্ধ করে দিতে চাইছে সিপিবিসহ তিন দল।

বৈঠক শেষে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, হাইকোর্টের আদেশে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু দলটির নেতারা যেন অন্য দলে যোগ দিয়ে সে দলের নমিনেশন না নিতে পারে। এ কথাটি আমরা জোর দিয়ে বলেছি।
সেলিম বলেন, ‘আমরা ইসির কাছে প্রস্তাব দিয়েছি যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হতে হলে কোন ব্যক্তিকে কমপক্ষে পাঁচ বছর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে সক্রিয় থাকতে হবে। এ ব্যবস্থা যেন ইসি করে।

নির্বাচনের আগে কেউ একটি দলে যোগ দিল আর সে দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করল- এমন যেন না হয়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য জামানতের পরিমাণ সার্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা করারও দাবি জানায় তিন বাম দল। সেলিম বলেন, ‘জামানতের পরিমাণ বেশি থাকলে সবাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। শুধু যাদের টাকা আছে তারাই অংশ নিতে পারে। যেটা পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগাদাও দেন বাম নেতারা। সিপিবি সভাপতি বলেন, ‘কেউ অভিযোগ করুক আর না করুক ইসির দায়িত্ব হলো ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। নির্বাচনকালীন সময় কমিশনকে অনেক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এ সময় নির্বাহী ক্ষমতার একটা প্রধান অংশ ইসির অধীনে থাকে। অর্থাৎ প্রচলিত সরকারের হাতে আর এ ক্ষমতা থাকে না।

সেলিম বলেন, ‘নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। এর জন্য একটা শক্তিশালী আন্দেলন দরকার হবে। আমরা সেই আন্দোলন অগ্রসর করে নিয়ে যাব।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ইসি চলছে কি না সেটাও আমরা দেখব। জনগণের পক্ষ থেকে আমরা দেখব তাদের ইচ্ছের প্রতিফলিত হচ্ছে কি না। যদি না হয় প্রয়োজনে আমরা ইসি ঘেরাও করব।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীরা ব্যয়সীমার অতিরিক্ত খরচ করছেন অভিযোগ করে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোরও তাগিদ দেন বাম নেতারা।
নির্বাচন কমিশনে তিন বাম দলের ১৮ প্রস্তাব
১. সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী জামানত পাঁচ হাজার টাকা করতে হবে।
২. ভোটার তালিকার সিডি বিনামূলে দিতে হবে।
৩. সকল প্রর্থীর টিআইএন বাধ্যতামূলক করার পরিবর্তে আয়করযোগ্যদের টিআইএন বাধ্যতামূলক করা।
৪. অনলাইনে মনোনয়ন দাখিলের সুবিধা।
৫. তফসিল ঘোষণার পর বেসমারিক প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনীসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, মন্ত্রিপরিষদ, স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, অর্থসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধায়নে চলবে।
৬. রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হলে কমপক্ষে পাঁচ বছর দলে সক্রিয় সদস্য হতে হবে।
৭. মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।
৮. প্রতি এলাকায় ইসি প্রার্থীদের পরিচিত সভা করবে।
৯. প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় তিন লাখ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
১০. প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় মনিটরিং করতে হবে।
১১. নির্বাচনী আয়-ব্যয়ের হিসাব ভোটের সাত দিনের মধ্যে দিতে হবে। নয়ত নির্বাচিতদের শপথ বন্ধ করতে হবে।

১২. নির্বাচনে যেকোন ধরনের পেশীশক্তির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
১৩. নির্বাচনে ধর্মের অপব্যবহার ও সাম্প্রদায়িকতা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।
১৪. প্রাচারণ যে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে তার যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া আচরণ বিধি লঙ্ঘনকারীদের প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।
১৫. সীমনা নির্ধারণ স্বচ্ছ করা এবং ভোটারের সম সংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা নির্ধারণ করা।

১৬. ভোটকেন্দ্রের তালিকা নির্বাচনে দুই সপ্তাহ আগে প্রার্থীদের দিতে হবে।
১৭. ইভিএম চালু না করা।

১৮. আরপিওর অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিকধারা বাতিল করা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান বাতিল করতে হবে।
আগামীতে  ইউরোপের  মতো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করতে ভিসা লাগবে না

আগামীতে ইউরোপের মতো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করতে ভিসা লাগবে না

স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে পাঁচ দিনব্যপী আনন্দমুখর বিজয় উৎসবের শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর)। এতে উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। কথা হয়েছে তিস্তা ইস্যু নিয়েও।

দিল্লি দূতাবাসের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী তার সমাপনী ভাষণে অনেকটা  এভাবেই বলেন যে, যা ইউরোপ পেরেছে তা আমারও পারবো। আগামী দিন আসছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাতায়াত করতে ভিসা লাগবে না! আগামীর জন্য যে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, তা মোটেও অলীক না। শুধু বাস্তবায়ন হওয়ার পথে।

তিনি বলেন, দুই দেশের নাগরিক পরিচয়পত্র, একটি বিশেষ পদ্ধতির মধ্যে আনার প্রক্রিয়া চলছে বিশ্ব ব্যাংকের মাধ্যমে। যাতে পরিচয়পত্র দেখালেই দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত বিনা ভিসায় সহজেই করা যাবে। আশা করা যায়, এই পরিকল্পনা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। তবে এই ভিসাহীন যাতায়াত হবে ধাপে ধাপে। কূটনীতিক, সরকারি কর্মচারী, সিনিয়র সিটিজেন, অসুস্থ ব্যাক্তি ও সব শেষে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে সীমানার প্রবেশ পথ। এটা আজ স্বপ্ন নয়, প্রক্রিয়াটি পরিকল্পনা মাফিক এগোচ্ছে।

তার বক্তব্য শেষ হতেই দর্শক আসন থেকে কয়েক সেকেন্ড ধরে চলে হাততালি। তিনি আরও বলেন, আমার জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারবো কি না জানিনা। তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার হেভিওয়েট মন্ত্রী। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও ভারতের পক্ষে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রালয়ের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু কান্যার নেতৃত্বে দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। যেখানে বাংলাদেশের জিডিপি ৭.২৮ শতাংশ সেখানে পাকিস্তানের ৫.২৮ শতাংশ। যেখানে বাংলাদেশে শিক্ষার হার ৭১ শতাংশ, পাকিস্তানের ৫৮ শতাংশ। যেখানে বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার প্রতি হাজারের মধ্যে ২৮টি সেখানে পাকিস্তানে ৬২। যেখানে বাংলাদেশে গড় আয়ু ৭১.৬ সেখানে পাকিস্তানে ৬৭ বছর।

তিনি বলেন, ওরা (পাকিস্তান) একদিন বলেছিল তাদের ছাড়া নাকি আমদের চলবে না। তারা যত আমাদের বিব্রত করবে, তত আমরা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবো। আর তারা তত পেছাবে। বাংলাদেশে সবাই এক। আমরা পরে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান। আগে আমরা বাঙালি। এটাই আমাদের আসল পরিচয়।

ওবায়দুল কাদের ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়, (ছবি: বাংলানিউজ)

শেষে মিষ্টি বাক্যে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভারত সরকার তিস্তার বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সবরকম সহযোগিতা করবে বলেছে। আমি চাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় আমাদের সহযোগিতা করুক। তিনি শুধু রাজ্যের দিদি নন, আমাদেরও দিদি। আমারও ওনাকে যথেষ্ট ভালোবাসি। আমরা চাই দিদি আমাদের সমস্যাটা বুঝে সহযোগিতা করবেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান।
২৮ যুবকের দেশ ভ্রমণ, মাদক বিরোধী প্রচারণায়

২৮ যুবকের দেশ ভ্রমণ, মাদক বিরোধী প্রচারণায়

স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ মাদক থেকে বিরত থাকুন, সুস্থ ভাবে বেচে থাকুন এই শ্লোগান নিয়ে সমাজের সর্বশ্রেনি ও পেশার মানুষদের সচেতনতা বাড়াতে ২৮ যুবক সাইকেলে দেশ ভ্রমন শুরু করেছে।

ইতোমধ্যে ২৮টি জেলা ভ্রমন শেষে এই দল রবিবার রাত ৮ টায় আমতলী এ কে স্কুল চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছে। সামান্য যাত্রাবিরতির পর রাতেই তারা আবার যাত্রা শুরু করেন কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে। কুয়াকাটায় প্রচারনা শেষ করে সোমবার বিকেলে ছুটবেন বরগুনা হয়ে পিরোজপুর জেলায়।

এই দলের দলনেতা মো: জামাল উদ্দিন জানান, দেশের যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষার জন্য গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকার গোয়ালবাথান খাড়াজোর এলাকার ৫০ জন কলেজ পড়ুয়া যুবক মিলে ২০১০ সালে বাংলাদেশ বাই-সাইকেল ট্যুরিষ্ট ক্লাবগঠন করেন।

২০১৩ সালে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সাইকেলে ঘুরে দেশের প্রতিটি জেলা এবং উপজেলার যুবক, যুবতী, শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেনি এবং পেশার মানুষকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝানো এবং এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনা। এই উদ্দেশ্যে এই ক্লাবের ২৮ জন যুবক নিজেদের টাকায় সাইকেল কিনে এবং নিজেদের খরচে বিজয়ের মাস ১৫ নভেম্বর শুক্রবার সকালে কালিয়াকৈর এলাকা থেকে সাইকেলে দেশ ভ্রমন শুরু করেন।

এই ভ্রমনের উদ্বোধন করেন কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মো: মজিবুর রহমান। এই দলের সদস্যরা ২০১৩ সাল থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত ২৮ জেলা ও ১০০টির মত উপজেলা ভ্রমন করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে মাদারীপুর বরিশাল, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়নগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ,পটুয়াখালী, সিলেট,মৌলুভীবাজার, টাঙ্গাইল, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগর, দিনাজপুর উল্লেখযোগ্য। এসকল জেলায় এবং উপজেলায় ভ্রমনের সময় দলের সদস্যরা ভাগ হয়ে সড়কের পাশে অবস্থিত বাস স্টান্ড স্কুল কলেজ ও মাদরাসার গিয়ে ক্লাশে ক্লাশে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝিয়ে বলেন। এবং সাথে করে নিজেদের টাকায় ছাপিয়ে এনেছেন হলুদ রংয়ের কয়েক হাজার লিফলেট। চলার পথে সড়কের পাশে যেখানে লোকজন পাওয়া যায় সেখানেই সাইকেল থামিয়ে মানুষের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় মাদক বিরোধী এই লিফলেট।

ছোট্ট এই লিফলেটে কিভাবে মাদকের ছোবলে স্কুল ,কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় পড়য়া শিক্ষার্থীদের জীবন ধংস হয়ে যাচ্ছে তার কুফল সম্পর্কে বর্ননা রয়েছে। নিজেরা সচেতন না হলে শুধু আইন কিংবা পুলিশ দিয়ে যে মাদক নির্মুল করা সম্ভব নয় তারও বর্ননা রয়েছে এই লিফলেটে।

এই দলের কলেজ পড়ুয়া সদস্য মাহিদ, আসলাম, বুলবুল জানান, নিজেদের জমানো টাকায় সাইকেল কিনে মাদকের হাত থেকে যুব সমাজকে বাঁচানোর জন্য দেশব্যাপী সাইকেলে ভ্রমন করছি। আশা করি আমরা দেশ থেকে মাদক নির্মুলে সক্ষম হব।
দলনেতা জামাল উদ্দিন দেশের যুবকদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আমরা সচেতন, আপনারাও সচেতন হবেন এবং মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো একে অন্যের কাছে তুলে ধরবেন।

বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক পিপিএম বলেন, যেই মুখে ডাকি মা, সেই মুখে মাদককে বলি না। আর মাদক নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে নিজ উদ্যোগে যে যুবকরা সাইকেলে দেশ ভ্রমন করে জনসচেতনতা বাড়াচ্ছে তাদেরকে আমি অভিনন্দন জানাই। সবাই যদি এভাবে কাজ করে তাহলে দেশ থেকে একদিন চিরতরে মাদক নির্মুল হবে আশা করি।
খালেদার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী রাষ্ট্রপক্ষের

খালেদার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী রাষ্ট্রপক্ষের


স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে এই দাবি জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।মামলার আসামি খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে তিনি এদিন মামলার ৩২ সাক্ষীর জবাবনবন্দি উপস্থাপন করে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন।

পরে খালেদা জিয়ার পক্ষে সময় আবেদন করা হলে বিচারক ড. আখতারুজ্জামান তা নাকচ করে পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য রাখেন।

Monday, December 18, 2017

রোহিঙ্গাদের ফেরৎ নেয়ার প্রতিশ্রুতি মিয়ানমারের স্রেফ প্রচারণা

রোহিঙ্গাদের ফেরৎ নেয়ার প্রতিশ্রুতি মিয়ানমারের স্রেফ প্রচারণা

স্বদেশবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফের নেওয়া বিষয়ে মিয়ানমারের প্রতিশ্রুতি দেশটির স্রেফ প্রচারণা বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

সংস্থাটি প্রমাণ পেয়েছে, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আরো ৪০টি গ্রামের ভবনসহ বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। ২৫ আগষ্টের পর রাখাইনে এ নিয়ে ৩৫৪টি গ্রাম আংশিক বা পুরোপুরি পুড়িয়ে করে দেয়া হয়েছে।

গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফের নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে সই করে মিয়ানমার। কিন্তু এরপরও রাখাইনের অনেক ঘরবাড়ি আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ২ ডিসেম্বর সেখানকার স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে এমনটাই জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, স্যাটেলাইট ছবিগুলো প্রমাণ করছে যে, এই ধ্বংসযজ্ঞ এমন সময়েও চালানো হয়েছে, যখন রোহিঙ্গাদের ফের নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে মিয়ানমার। ২৩ নভেম্বর ওই সমঝোতা হয়।

কিন্তু ২৫ নভেম্বর রাখাইনের মংডুর কাছে মিয়াও মি চ্যাঙ গ্রামে আগুন আর ঘরবাড়ি ধ্বংসের ছবি তুলেছে স্যাটেলাইট। পরের এক সপ্তাহের মধ্যে চারটি গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

সংস্থাটির এশিয়ার বিষয়ক পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলছেন, ''সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সময়েও রাখাইন গ্রামে বার্মার সেনাবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ চালানো থেকে এটাই প্রমাণ হয়, রোহিঙ্গাদের ফের নেয়ার এই প্রতিশ্রুতি স্রেফ একটি প্রচারণা। রোহিঙ্গা গ্রামগুলো ধ্বংসের যেসব অভিযোগ বার্মার সেনাবাহিনী অস্বীকার করে আসছে, সেটাই প্রমাণ করে দিচ্ছে এসব স্যাটেলাইট ছবি।''

মিয়ানমারের মংডু, বুথিডাং আর রাথিডাং শহরে আশেপাশের ১০০০ গ্রামের উপর স্যাটেলাইটের তোলা ছবি বিশ্লেষণ করেছে এসব তথ্য পেয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এ বছর আগষ্ট মাসের শেষের দিকে রাখাইনে সামরিক অভিযান শুরুর পর এসব গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়।

সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫৪টি গ্রামের মধ্যে অন্তত ১১৮টি গ্রামে হামলা হয়েছে ৫ই সেপ্টেম্বরের পর, যখন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের অফিস থেকে ঘোষণা দেয়া হয় যে, রাখাইনে অভিযানের সমাপ্তি হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, অগাস্ট থেকে রাখাইনে শুরু করা এই অভিযানের সময় বার্মার সেনাবাহিনী হত্যা, ধর্ষণ, গ্রেফতার আর ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড চালিয়েছে। জাতিগত নির্মূলের এই অভিযান মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেই সমতুল্য বলে সংস্থাটি দেখতে পেয়েছে।

গত ১৪ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে বেসরকারি দাতব্য প্রতিষ্ঠান মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ে (এমএসএফ) বলছে, মিয়ানমারে আগস্টে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এক মাসে অন্তত ৬ হাজার ৭'শ রোহিঙ্গা হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৬ হাজার ৭'শ মৃত্যুর কারণ সহিংসতা, যার মধ্যে পাঁচ অথবা তার চেয়ে কম বয়সের শিশু ছিল ৭৩০ জন।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু

মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু

দিগন্তবার্তা ডেস্কঃ চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে মেজবান খেতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১০ জন মৃত্য বরণ করেছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (চমেক) নেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছেন, আহত হয়েছে ২৫ জন।
হতাহতের বিষয়টি চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম, এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের  মেডিক্যাল অফিসার বর্নি চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) নগরীর আসকার দিঘি এলাকার  এস এস খালেদ রোডের রিমা কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্যদের ধর্মাবলম্বীদের জন্য মেজবানের আয়োজন করা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কমিউনিট সেন্টারের গেট খুলে দেওয়ার পর হুড়োহুড়ি করে ঢুকতে গিয়েই এ ঘটনা ঘটেছে। রাস্তা থেকে গেটটা একটু ঢালু হওয়াতেই লোকজন পড়ে যায়।

নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এমপি ফজলে করিম চৌধুরী।
নগরীর ১৪টি কমিউনিটি সেন্টারে প্রায় এক লাখ মানুষের জন্য কুলখানি উপলক্ষে মেজবানের আয়োজন করা হয়।
এর আগে সকালে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে সকালে চাশমা হিলের বাসভবনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

মেজবানের ভেন্যুগুলো হচ্ছে, পাঁচলাইশ এলাকার দ্য কিং অব চিটাগাং’, জিইসির মোড়ের কে স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টার’, চকবাজারের কিশলয় কমিউনিটি সেন্টার’, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার সুইস পার্ক কমিউনিটি সেন্টার’, লাভ লেনের স্মরণিকা কমিউনিটি সেন্টার’, মুরাদপুর এলাকায় এন মোহাম্মদ কনভেনশন হল’, বাকলিয়ার কেবি কনভেনশন হল’, কাজির দেউড়ির ভিআইপি ব্যানকোয়েট কমিউনিটি সেন্টারএবং সাগরিকা স্কয়ার’, ডাবল মুরিংয়ের গোল্ডেন টাচ কমিউনিটি সেন্টার। এছাড়া  রিমা কনভেনশন সেন্টারএ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্যদের ধর্মালম্বীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের তিনবারের মেয়র এবং মহানগর আওয়ামী সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ ডিসেম্বর মারা যান।